আপনার পিসিকে করুন ঝামেলামুক্ত এবং দ্রুতগতি সম্পন্ন

আপনার পিসিকে করুন ঝামেলামুক্ত এবং দ্রুতগতি সম্পন্ন।

আপনার পিসিকে করুন ঝামেলামুক্ত এবং দ্রুতগতি সম্পন্ন
আপনার পিসিকে করুন ঝামেলামুক্ত এবং দ্রুতগতি সম্পন্ন

কম্পিউটার ব্যবহার করতে করতে প্রায়ই আমাদের বিভিন্ন ঝামেলায় পড়তে হয়। স্লো হয়ে যাওয়া, হ্যাং করা, ভাইরাসের আক্রমন ইত্যাদি সমস্যার সাথে মোটামুটি সবাই পরিচিত। হাই কনফিগারেশন এর পিসিতেও এই সমস্যাগুলো হতে পারে। এ সকল কারনে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ন কাজের ব্যঘাত ঘটে। তবে একটু সচেতন হলেই এই ব্যপারগুলো সহজেই এড়িয়ে চলা যায়।

slow pc

আপনার পিসিকে দ্রুতগতি সম্পন্ন এবং ঝামেলামুক্ত করতে কয়েকটি ফ্রী টুলস এবং টিপস নিয়েই এই পোস্ট।
ভাইরাস, স্পাইওয়্যার থেকে সুরক্ষা

আনেকেই মনে করে এন্টিভাইরাস ইন্সটল করলে পিসি স্লো হয়ে যায়। কিন্তু ভাইরাস এবং স্পাইওয়্যার আপনার পিসিকে আরও বেশি স্লো করে দিতে পারে। এমনকি আপনার গুরুত্বপূর্ন তথ্যও মুছে ফেলতে পারে। এ জন্য আপনার পিসিতে যে কোন ভাল একটি এন্টিভাইরাসের লেটেস্ট ভার্শন ইন্সটল করে নিয়মিত আপডেট করা উচিত। সাথে সাথে একটি এন্টিস্পাইওয়্যারও ব্যবহার করা উচিত।
নূন্যতম সফটওয়্যার ব্যবহার

অধিক সফটওয়্যার এর ব্যবহার আপনার পিসিকে যথেস্ট স্লো করে দিতে পারে। প্রতিটি সফটওয়্যার ইন্সটল করার সাথে সাথে এটি রেজিস্ট্রিতে এন্ট্রি প্রবেশ করায়। আর রেজিস্ট্রির এইসব এন্ট্রি যত বাড়তে থাকে পিসিও তত স্লো হতে থাকে। তাই চেস্টা করা উচিত যত কম সংখ্যক সফটওয়্যার ব্যবহার করা যায়। আরেকটি ভাল সমাধান হল পোর্টেবল সফটওয়্যার ব্যবহার করা। পোর্টেবল সফটওয়্যার ইন্সটল করার প্রয়োজন হয় না। তাই রেজিস্ট্রি পরিস্কার থাকে।
স্টার্টআপ প্রোগ্রাম ডিজেবল করা

আপনার পিসি স্টার্ট হওয়ার সাথে সাথে কিছু কিছু সফটওয়্যারও অটো স্টার্ট হয়। এতে করে বুটআপ স্লো হয়ে যায়। স্টার্টআপ পরিস্কার করার জন্য Start মেনুতে গিয়ে Run এ ক্লিক করুন। এরপর MsConfig লিখে এন্টার চাপুন। একটি উইন্ডো ওপেন হবে। সেখান থেকে Startup ট্যাব এ ক্লিক করুন। এখানে যেই প্রোগ্রামগুলোতে টিক চিহ্ন দেয়া আছে সেগুলো আপনার পিসি স্টার্ট হওয়ার সময় অটো স্টার্ট হয়। এখান থেকে যে সফটওয়্যারগুলো প্রয়োজন নেই সেগুলো থেকে টিক চিহ্ন তুলে দিয়ে Ok করুন। তবে খেয়াল রাখবেন আপনার সিস্টেম এর কোন প্রোগ্রাম থেকে যেন টিক চিহ্ন তুলে না দেন। এরপর পিসি রিস্টার্ট করুন।
টেমপোরারি ফাইল, কুকি এবং রেজিস্ট্রি পরিস্কার

কম্পিউটারে বিভিন্ন কাজ করার সময় এবং সফটওয়্যার ইন্সটল করলে টেমপোরারি ফাইল জমা হয়। এই ফাইল গুলো একেবারেই অপ্রয়োজনীয়। টেমপোরারি ফাইল ডিলিট করার জন্য Start Menu থেকে Run এ গিয়ে লিখুন %temp% তারপর এন্টার চাপলে টেপোরারি ফাইলগুলো দেখা যাবে। এবার কি বোর্ড থেকে Ctrl+A চেপে সবগুলো ফাইল সিলেক্ট করে Shift+Delete চেপে ডিলিট করে দিন।

ইন্টারনেট ব্রাউজ করার সময় বিভিন্ন ওয়েব সাইট আপনার পিসিতে কুকি জমা করে। যার মধ্যে বেশির ভাগই অপ্রয়োজনীয় এবং পিসিকে স্লো করে ফেলে। কুকি ডিলিট করার জন্য ফায়ারফক্স ব্রাউজার থেকে টুলস এ ক্লিক করুন। তারপর অপশনস এ ক্লিক করে যে উইন্ডো ওপেন হবে সেখান থেকে প্রাইভেসি ট্যাব এ ক্লিক করুন। এবার ক্লিয়ার নাও বাটন এ ক্লিক করে কুকি সিলেক্ট করে “ক্লিয়ার প্রাইভেট ডাটা নাও” বাটনে ক্লিক করলে কুকি ডিলিট হয়ে যাবে। আর আপনি যদি অন্য কোন ব্রাউজার ব্যবহার করে থাকেন তাহলে ফায়ারফক্স ট্রাই করে দেখুন। এটি নিরাপদ, সহজ এবং দ্রুতগতি সম্পন্ন।

রেজিস্ট্রি পরিস্কার করার জন্য Registry Fix আথবা Registry Easy ব্যবহার করতে পারেন।
একাধিক ম্যাসেঞ্জার বর্জন করুন

অনেকেই তাদের পিসিতে ইয়াহু ম্যাসেঞ্জার, গুগল টক, এমএসএন ম্যাসেঞ্জার ইত্যাদি একসাথে ইন্সটল করে রাখে। এগুলোও পিসিকে স্লো করে ফেলে। এতগুলো সফটওয়্যার এর কাজ আপনি একটি সফটওয়্যার দিয়েই করতে পারেন। এর জন্য PidGin অথবা Digsby ব্যবহার করুন।
ডেস্কটপে কম আইকন ব্যবহার

ডেস্কটপ ভর্তি আইকন আপনার পিসির স্টার্টআপ এবং অন্যান্য কার্যক্রম ধীরগতির করে দিতে পারে। তাই ডেস্কটপে প্রয়োজনীয় ২-৩টি আইকন এর বেশি রাখা উচিত নয়। প্রোগ্রামগুলো সরাসরি স্টার্ট মেনু থেকে ব্যবহার করুন অথবা Launchy ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
অপ্রয়োজনীয় ফন্ট এবং সফটওয়্যার আনইন্সটল

অপ্রয়োজনীয় ফন্ট এবং সফটওয়্যার আনইন্সটল করে ফেলা উচিত। পিসি স্টার্ট হওয়ার সময় ফন্টগুলো লোড হয়। ফলে স্টার্টআপ ধীরগতির হয়ে যায়। ফন্ট আনইন্সটল করার জন্য Control Panel থেকে Font ফোল্ডারে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় ফন্টগুলো ডিলিট করে দিন।

এই কৌশলগুলো প্রয়োগ করলে আশা করি আপনার কম্পিটার হয়ে উঠবে আরও গতিশীল এবং ঝামেলামুক্ত।

হাওরে মঙ্গার পূর্বাভাস

হাওরে মঙ্গার পূর্বাভাস

সামনের দিন কেমন কাটবে, সংসার চলবে কীভাবে—এই অনিশ্চয়তায় ফসলহারা গ্রামবাসী। ছবিটি গতকাল সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ঘটঘটিয়া গ্রাম থেকে তোলা l প্রথম আলো

হাওরে মঙ্গার পূর্বাভাস

সামনের দিন কেমন কাটবে, সংসার চলবে কীভাবে—এই অনিশ্চয়তায় ফসলহারা গ্রামবাসী। ছবিটি গতকাল সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ঘটঘটিয়া গ্রাম থেকে তোলা l প্রথম আলোভরদুপুরে মেঘে ছাওয়া আকাশের নিচে উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সাড়ে সাত শ মানুষের গ্রাম ঘাগটিয়া। কিন্তু এসব মানুষের মাথা নিচু; ছোট ছোট দেহাতি মানুষ। গালভাঙা মুখগুলো শুকনো, কিন্তু তাদের চারপাশে অথই পানি। পুব পাশেই সাড়ে আট হাজার হেক্টরের বিস্তীর্ণ জলমহাল ‘খরচার হাওর’। বৈশাখ মাসে হাওরের বাতাস পাকা ধানের মধুগন্ধে ম-ম করে। তবে এখন বাতাস ভারী হয়ে আছে উৎকট গন্ধে। মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে হাওরের সব ধান তলিয়ে গেছে। পানির তলায় কাঁচা ধানসুদ্ধ গাছে ধরেছে পচন। তারই দুর্গন্ধ ছুটেছে চারদিকে।

সুনামগঞ্জ শহর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সদর। সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ঘটঘটিয়া নামের এক পাহাড়ি নদী বেয়ে পাঁচ কিলোমিটার পেরিয়ে পৌঁছা গেল ঘটঘটিয়া গ্রামে। নদী থেকে গ্রামের কিনারে এসে উঠে দাঁড়াতেই লোকজন কাছে আসতে শুরু করল। প্রথমেই এগিয়ে এলেন লালসাদ নামের সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ। তিনি ভেবেছেন আমরা সরকারের লোক, নিজের নামটাই আগে বললেন, যেন আমি তা লিখে নিই। সুনামগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষায় বললেন, ‘সব ধান গেছে, আমরা শেষ।’ তাঁর পাঁচ ছেলে, এক মেয়ে। পাঁচ কেয়ার (বিঘা) জমিতে ধান চাষ করেছিলেন, ধান চাষই তাঁর প্রধান জীবিকা। কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, হঠাৎ বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সেই ধান নষ্ট হয়ে গেল। এখন সারা বছর তাঁর সংসার চলবে কীভাবে?

দেখতে দেখতে ভিড় জমে ওঠে। যে সময় গ্রামের মানুষের ব্যস্ত থাকার কথা ছিল ধান কাটা-মাড়াই করা, ধান বিক্রি করে ঘরদোর মেরামত করা এসব কাজে, সেই সুখের মওসুমে এবার এসেছে বর্ষার মতো ঢল। তাই গ্রামের প্রায় সব লোকই এখন বেকার। সে কারণেই ভরদুপুরে আমার চারপাশে ভিড় জমে যায়। সবাই নিজের দুঃখ-দুর্দশা-দুশ্চিন্তার কথা বলতে ব্যাকুল। একে অন্যকে থামিয়ে বলতে শুরু করলেন। তাঁদের অনুরোধ করে বললাম, ‘একজন একজন করে বলেন।’ একজন বললেন, এখনই তাঁর অভাব শুরু হয়েছে। তাঁর পেশা মাছ ধরা। কিন্তু কদিন ধরে মাছ ধরছেন না। প্রশাসন মাইকিং করে মাছ খেতে নিষেধ করে দিয়েছে। তাই লোকে মাছ খাচ্ছে না।

গালভরা সফেদ দাড়িওয়ালা ৬৫ বছরের আসক আলী বললেন, তাঁর একান্নবর্তী সংসারে ১৯ জন খানেওয়ালা। ৩৬ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন, সব গেছে। গরু ছিল ছয়টা, সম্প্রতি তিনটা বেচে দিয়েছেন। বাকি তিন গরুকে কী খাওয়াবেন, সেই দুশ্চিন্তা শুরু হয়েছে।

৫৬ বছর বয়সী মকবুল হোসেনেরও পরিবার বড়, ১২ জন সদস্য। তাঁর অবস্থাও আসক আলীর মতো। কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। বললেন, ‘আমার নামটা লেখেন। সরকারকে বলবেন, সামনে আমাদের বড়ই দুর্দিন। আমরা শেষ হয়ে যাব।’

৪৭ বছর বয়সী ফারুক মিয়া বললেন, তাঁর চার মেয়ে। প্রথম মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এই বৈশাখে দ্বিতীয় মেয়ের বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এখন বিয়ে দূরে থাক, খেয়েপরে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশ থেকে আরেকজন বললেন, এই গ্রামে এ বছর পনেরো-ষোলোটা বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। ফসল উঠলে গ্রামে বিয়ের ধুম পড়ে যেত। এখন আর একটা বিয়েও হবে না।

জিজ্ঞাসা করলাম, ‘আপনারা এখন কী করবেন?’ বয়স্ক ব্যক্তিরা বললেন, ‘কী আর করার আছে! আল্লাহ আল্লাহ করুম।’ বৃদ্ধ আসক আলী বললেন, ‘আল্লাহ ছাড়া তো ভরসা নাই।’ অপেক্ষাকৃত কম বয়সীরা বললেন, তাঁদের এখন উপায় হলো মাছ ধরে কোনোমতে আগামী ফসলের মওসুম পর্যন্ত টিকে থাকা। আগামী মওসুম মানে পুরো এক বছর। তার আগে টিকে থাকার জন্য অনেক কিছু করতে হবে। বর্ষা শুরু হলে হাওরে অনেক মাছ পাওয়া যাবে। কিন্তু সরকার যদি বড়লোকদের কাছে হাওর লিজ দিয়ে দেয়, তাহলে ‘আমরার মরণ’। তাঁরা চান, হাওর যেন লিজ দেওয়া না হয়। তাঁরা যেন মাছ ধরে খেয়েপরে বাঁচতে পারেন।

একজন বললেন, যাঁরা ধারকর্জ করে ধান চাষ করেছিলেন, সার-কীটনাশক ইত্যাদি কিনেছিলেন। কথা ছিল নতুন ধান বিক্রি করে তাঁরা ঋণ শোধ করবেন। কিন্তু নতুন ধান কোথায়? তাঁরা ঋণ শোধ করবেন কী দিয়ে?

জানতে চাইলাম, এ রকম ফসলহানি এর আগে কখনো হয়েছিল কি না। একজন বললেন, সংগ্রামের (মুক্তিযুদ্ধের) কয়েক বছর পরে একবার হয়েছিল। অন্যজন এর প্রতিবাদ করে বললেন, সংগ্রামের পর নয়, আগে। আরেকজন তার প্রতিবাদ করে বললেন সংগ্রামের পরে। এই নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে বৃদ্ধ লালসাদ বললেন, ঘটনাটা ঘটেছিল মুক্তিযুদ্ধের কয়েক বছর পরে। তারপর প্রায় চল্লিশ বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু এমন বৈশাখ মাসে বিপর্যয় এর আগে আর কখনো আসেনি। বৃদ্ধ বললেন, আগে পাহাড়ি নদীগুলো ছিল খরস্রোতা। এখন সেগুলো ভরাট হয়ে গেছে। বিশ্বম্ভরপুরের সাংবাদিক স্বপন কুমার বর্মন বললেন, নদীগুলোর নাব্যতা কমে যাওয়া হাওর অঞ্চলের অসময়ে জলমগ্নতার একটা বড় কারণ।

গ্রামের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘এবারের এই ফসলহানির জন্য আপনারা কাকে দায়ী করবেন?’ বৃদ্ধরা পরস্পর মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগলেন। অল্প বয়সীরা বললেন, বেড়িবাঁধের কাজে যারা গাফিলতি আর চুরি করেছে, দোষটা তাদের। তারা বেড়িবাঁধে ঠিকমতো মাটি দেয়নি। যেটুকু দিয়েছে, তা ঢলের পানি আটকাতে পারেনি। ঘাগটিয়া গ্রামের অদূরে একটা রাবার ড্যাম আছে, সেটাকে দায়ী করলেন অনেকে। ওই রাবার ড্যাম তৈরি হওয়ার পরে নাকি তাঁদের গ্রামের আশপাশে প্রায় প্রতিবছরই জলমগ্নতা সৃষ্টি হয়। হাওরাঞ্চলে জলব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ এবং ফসল রক্ষার জন্য বেড়িবাঁধ ও রাবার ড্যাম নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রকৃতির সঙ্গে কিছু বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে হয়। হাওরে পানি প্রবেশ করা এবং প্রয়োজনের সময় পানি বের করে দেওয়ার কাজগুলো সম্ভবত সঠিকভাবে করা হয় না।

হাওরে মঙ্গার পূর্বাভাস

‘আপনাদের ফসল তো ঘরে ওঠেনি, তার মানে আপনাদের হাতে বাড়তি টাকা এখনো আসেনি। এখন আপনারা কীভাবে চলছেন?’ আমার এই প্রশ্নের উত্তরে কেউ কেউ বললেন, তাঁদের ঘরে অভাব শুরু হচ্ছে। যতই দিন যাবে, অভাব ততই প্রকট থেকে প্রকটতর হতে থাকবে। কার্তিক মাসে যখন নতুন করে ধান চাষের কাজ শুরু হবে, তখন ছোট কৃষকদের অবস্থা হবে সঙিন। তাঁদের হাতে টাকা থাকবে না; ধানের বীজ, সার, কীটনাশক ইত্যাদি কেনার পয়সা থাকবে না। ঋণ করতে হবে, কিন্তু যেহেতু ব্যাপক ফসলহানি ঘটেছে, তাই ঋণ দেওয়ার মানুষও পাওয়া যাবে না।

মশিউল আলম: সাংবাদিক  সাহিতি্যক৷

রুবেল মিয়া যেন ‘ডেভিড বেকহাম’, দেখে নিন আবাহনীর দুর্দান্ত গোল দুটি

রুবেল মিয়া যেন ‘ডেভিড বেকহাম’, দেখে নিন আবাহনীর দুর্দান্ত গোল দুটি

কার গোলটা বেশি সুন্দর? সাদ উদ্দিন না রুবেল মিয়া?
ধন্দে পড়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। আজ এএফসি কাপে ভারতের বেঙ্গালুরু এফসির বিপক্ষে আবাহনীর জয়টাই ছিল চমক জাগানিয়া। ৮০ মিনিটে ডিফেন্ডার নাসির লাল কার্ড দেখায় ১০ জনের দল হয়ে পড়ে আবাহনী, তখনো ম্যাচ ছিল গোলশূন্য। দশজনের দল নিয়েই পরে ভারতীয় লিগে এই মুহূর্তে পঞ্চম ও ম্যাচের আগের হট-ফেবারিট বেঙ্গালুরুর জালে দু-দুটি গোল দিল আবাহনী! কে ভেবেছিল এমন কিছু?

২-০ গোলে আবাহনীর এই জয়ই অভাবনীয়, কিন্তু তার চেয়েও চোখ কপালে উঠে যাওয়ার মতো ব্যাপার হচ্ছে সাদ ও রুবেলের গোল দুটি। নাসির লাল কার্ড দেখার পরই মাঠে নামেন দুই বছর আগে সিলেটে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপে চমক দেখানো বাংলাদেশ দলের স্ট্রাইকার সাদ। নেমেই গোল! কী দুর্দান্ত ফিনিশিং! ডান দিক থেকে ভেসে আসা ক্রসে ডাইভিং শট!
সাদের গোলটিই চোখে লেগে থাকার মতো। তবে কিছুক্ষণ পর তাঁকে টেক্কা দেওয়ার মতো এক গোল করলেন রুবেল মিয়াও। এমনই গোল, যেটি মনে করিয়ে দিল ডেভিড বেকহামকে। ১৯৯৬ সালে উইম্বলডনের বিপক্ষে মাঝবৃত্তের কাছাকাছি জায়গা থেকে গোল করেছিলেন সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবদন্তি। আজ রুবেলের গোলটিও অনেকটা তেমনই। আক্রমণে বেঙ্গালুরুর গোলকিপারও উঠে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতি আক্রমণে বল এল রুবেলের পায়ে। ফাঁকা পোস্ট পেয়ে মাঝবৃত্ত থেকেই শট নিলেন, সেটি জড়িয়ে গেল জালে!
আবাহনীর জয়ই বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য সুখবর। তাতে আরও বাড়তি পাওনা, দুই তরুণ বাংলাদেশি ফরোয়ার্ডের এমন দুর্দান্ত গোল।